আসসালামুয়ালাইকুম বন্ধুগন। কেমন আছেন সবাই? আশা করি অনেক ভালো আছেন। আজকে আমি আপনাদের মাঝে নিয়ে হাজির হলাম গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে নতুন একটি আর্টিকেল নিয়ে। আজকের আর্টিকেল টিতে graphics design নিয়ে সম্পূর্ণ আলোচনা করবো। তো চলুন প্রধান বিষয়ের দিকে যাওয়া যাক।
বর্তমান সময়ের একটি সম্ভাবনাময় ও চাহিদা উপযোগী সেক্টর হলো গ্রাফিক ডিজাইন। বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেস গুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের চাহিদা অন্যান্য সার্ভিসের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু অনলাইনের জগতেই নয় অনেক নামি দামি কোম্পানি গ্রাফিক ডিজাইনারদেরকে তাদের কোম্পানির পোস্টার, ব্যানার, লোগো ইত্যাদি অ্যাডভার্টাইজমেন্ট কাজের জন্য স্হায়ীভাবে নিয়োগ বা চাকরি দিয়ে থাকেন। তাই বলা যায় গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের জন্য রয়েছে সম্ভাবনাময় সব সুযোগ। যা হয়তো অন্য কোন পেশায় পাওয়া সম্ভব না।
গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আপনি অনলাইন ফিল্যান্সিং এবং অফলাইন চাকরির মাধ্যমে আয় করতে পারবেন। অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যেমনঃ আপওয়ার্ক, ফাইবার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম ইত্যাদি প্লাটফর্ম গুলোতে কাজ করতে পারবেন। বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে প্রচুর গ্রাফিক্স ডিজাইনার রয়েছেন যারা এইসকল অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে প্রত্যেক মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে থাকেন। তবে তার জন্য অবশ্যই দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন আছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের অনেকগুলো সাব ক্যাটাগরি আছে। এগুলোর যেকোনো একটিতে বা একাধিক সাব সেক্টরে দক্ষ হয়ে উঠতে পারলে প্রচুর পরিমাণ আয় করার সুযোগ রয়েছে।
অপরদিকে অফলাইনেও গ্রাফিক ডিজাইনারদের ইনকাম করার অনেক সুযোগ সুবিধা আছে। বেশিরভাগ মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি স্থায়ীভাবে গ্রাফিক ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সময় বড় কোন প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। এইগুলো থেকে মোটামুটি ভালো পরিমাণে ইনকাম করা সম্ভব। অনেকেই আবার চুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করেন। সেখান থেকেও ভালো পরিমান বেতন পাওয়া যায়। তাই বলা যায় নিজেকে দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে আপনার কাজ বা চাকরি পেতে কোন সমস্যা হবে না।
মোবাইল দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন
প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বর্তমানে নতুন নতুন কাজের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। তার একটি অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে- স্মার্টফোন। বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোনগুলো পূর্বের অনেক কম্পিউটারের চেয়েও অনেক আধুনিক ও শক্তিশালী ডিভাইস হয়ে উঠেছে। তাই এখন স্মার্টফোনগুলো দিয়েই অনেক কিছু করা সম্ভব। আমাদের আধুনিক জীবনের অনেক কিছুই বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে স্মার্টফোনকে কেন্দ্র করে। যার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। কি অবাক লাগছে, তাই না? অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারন এখন আপনি চাইলেই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে টুকটাক গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করে নিতে পারেন। ভালোভাবে কাজ করতে পারলে অনেক সময় স্মার্টফোনে করা কাজই প্রফেশনালের মতই দেখায়। তাই কেউ চাইলেই নিজের কাছে থাকা স্মার্টফোনটি ব্যবহার করে দৈনন্দিন টুকটাক গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজ করে নিতে পারে।
বেশ কয়েকটি অ্যাপ রয়েছে যেগুলো দিয়ে খুব সহজে যেকেউ মোটামুটি ভালো মানের পোস্টার, ব্যানার, লোগো ইত্যাদি ডিজাইন করতে পারে। তাই বাজারে আসা নতুন নতুন এসব সফটওয়্যারের কারণে গ্রাফিক ডিজাইন আর খুব একটা কঠিন বিষয় না। এছাড়াও বর্তমানে বিখ্যাত অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যারের অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস ভার্সন বের হয়েছে। যেমনঃ এডোবি ইলাস্ট্রেটর, এডোবি ফটোশপ, এডোবি লাইটরুম ইত্যাদি। ফলে সাধারণ মানের কাজগুলো এখন স্মার্টফোন দিয়েই করে নেওয়া যায়।
স্মার্টফোনে গ্রাফিক্স ডিজাইন করার একটি সেরা অ্যাপ হলো ক্যানভা। তবে অ্যাপ এর পাশাপাশি ওয়েবসাইটেও গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করা যায়। এটি এমন একটি অ্যাপস যে যেকেউ এখানে গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে পারে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। প্রধানত গ্রাফিক ডিজাইনের বিভিন্ন ডিজাইন আগে থেকেই এখানে দেয়া থাকে। আপনাকে শুধু নাম, কালার বা ফন্ট পরিবর্তন করে কাজ করতে হয়। আপনার সিভি থেকে শুরু করে ব্যানার, ই-বুক, পোস্টার, লোগো, গিফট কার্ড সহ প্রায় সব রকমের ডিজাইনই আপনি এইসব অ্যাপ দিয়ে করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনে একেবারে নতুন তারা এখান থেকে অন্যদের ছোটখাটো কিছু কাজ করে একটা ভালো পরিমানে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব। এছাড়াও অনেক ধরনের অ্যাপ রয়েছে যা ব্যবহার করে খুব সুন্দর এবং প্রফেশনাল মানের গ্রাফিক্স ডিজাইন করা যায়। যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করে দিয়েছে।
গ্রাফিক ডিজাইনের মতো মহৎ এই সেক্টরকে এত সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে সম্পূর্নরুপে উপস্থাপন করা কখনই সম্ভব না। তবে আশা করি, এই আর্টিকেলটি থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনের বেসিক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনারা যথেষ্ট ধারণা পাবেন। যা আপনার আগামীতে পথ চলা আরো সহজ করবে।
ধন্যবাদ
ReplyDeletePost a Comment